সুস্বাস্থ

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার কিঃ-latenightdream.com

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার কিঃ Causes for hair fall and remedy

 

চুল মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ, চুল যেমন আমাদের সৌন্দর্য Beauty বৃদ্ধি করে তেমনি আমাদের ব্যাক্তিত্ত্ব Personality কেও ফুটিয়ে তোলে। আমরা সবাই চাই মাথা ভর্তি ঘন চুলের অধিকারী হতে চুল পরলে hair fall তাই দুশ্চিন্তায় Tension পরেন যেকোন বয়সের নারী ও পুরুষ।

চুল পরা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, প্রতিদিন গড়ে Average ৫০-১০০ টি চুল পরে এবং সেই জায়গায় নতুন করে চুল গজায়। কিন্তু স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশী পরলে ধীরে ধীরে মাথায় টাক পরতে শুরু করে। ঠিক তখনি শুরু হয় দুশ্চিন্তা যা চুল পরতে আরো বেশী সহায়তা করে।

গবেষণায় দেখা যায় বংশীয় প্রভাব চুল পড়ার Hair fall প্রধান কারন হলেও কিটোডাইট, যেকোন ধরনের তাপ বা ক্যামিকেল প্রয়োগ Chemical application, পরিশ্রমহীনতা, পুষ্টিহীনতা Malnutrition, ফাষ্টফুডের Fast food কারনে ব্যাপক ভাবে চুল পরার প্রবনতা দেখা যায়। এছাড়াও আমরা চুলে বিভিন্ন ধরনের রং করি, ষ্ট্রেট করি, আয়রন করি এগুলো ও চুলের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

যেকোন অপারেশন ,যেকোন অসুখের পরে যেমনঃ এনিমিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস এসব রোগের কারনে চুল পরে, এগুলোর পাশাপাশি কিছু হরমোনাল ইনব্যালেন্স Hormonal imbalance যেকোন ভাইরাল ইনফেকশনের Virul Infection পরে চুল পরতে পারে। বর্তমান সময়ে কোভিট- ১৯ Covit-19 এ আক্রান্ত হওয়ার পর পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত চুল পরতে পারে।

 

মানুষ সাধারনত লোক মুখে শুনে বিভিন্ন ধরনের তেল, খৈল, বিভিন্ন উদ্ভিদের রস ব্যাবহার করে মাথায়। কোনটিতেই স্থায়ী সুফল না থাকায় একের পর এক অবৈজ্ঞানিক থেরাপির স্বরণাপন্ন হয় যা উল্টো ক্ষতির কারণ হয় অনেক ক্ষেত্রেই।

 

চুল পরার অন্যান্য কারনঃ Causes for Hair fall

  1. নিয়মিত পরিষ্কার না করা ও যত্ন না নেওয়া
  2. হরমোনের পরিবর্তন Hormonal change
  3. ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল Puberty এর সময়
  4. মেয়েদের গর্ভাবস্থা Pregnancy ও প্রসব Delivery পরবর্তি কালীন সময়ে
  5. মাথার ত্বকে সংক্রমণ Skin infection
  6. ত্বকের বিভিন্ন রোগ Skin Disease
  7. মানষিক চাপ Mental Stress
  8. ধূমপান ও মদ্যপান করা Smoking and Drinking
  9. অধিক রাত পর্যন্ত জেগে থাকা
  10. দূষিত আবহাওয়া Air Pollution
  11. অত্যধিক চুল টানা
  12. অত্যধিক হেয়ারস্টাইলিং Hair Style বা চুলের চিকিৎসা করা Hair trearment
  13. বিকিরণ থেরাপি Radiation therapy নেওয়া
  14. থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিক ভাবে কাজ না করলে
  15. লিভার এর সমস্যা Liver problem ও হজম এর সমস্যা Digestive problems
  16. কিছু রোগের ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়ার কারনে যেমনঃ ক্যান্সার, বিষন্নতা Sadness, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ heart disease, উচ্চ রক্তচাপ high blood pressure, ইত্যাদি।

 

এতক্ষন তো জানলাম চুল পরার কারন এর বিশাল ইতিহাস । এবং পরিচিত হলাম এই ইতিহাসের খলনায়ক দের সাথে। এখন প্রশ্ন হল তাহলে কি আমরা এদের থেকে পরিত্রান পাবো না?

পাবো !

পরিত্রান যে পেতেই হবে না হলে তো মাথাটা চকচকে হয়ে যাবে অল্প দিনের মধ্যেই।

তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে পরিত্রান পেতে পারি-

উপরের কারন গুলোর সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিন দেখুন আপনার সাথে কি কি মিলে যাচ্ছে সেগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলুন। শরিরের যত্ন নিন স্বাস্থ ঠিক রাখুন। নিয়মিত চুলের যত্ন নিন পুষ্টিকর খাবার খান বদঅভ্যাস থাকলে দূর করুন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন নিয়মিত শাক সবজি খান জাঙ্কফুড Junk Food পরিহার করুন। পর্যাপ্ত ঘুম এর অভ্যাস করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও আপনার চুল পরতে পারে।

এবার জেনে নেওয়া যাক কিভাবে চুলের যত্ন নেওয়া যায় ও পরিচর্যা করা যায়ঃ

  1. নিয়মিত সপ্তাহে কমপক্ষে ২ বার চুল পরিষ্কার করুন
  2. চুলে নিয়মিত তেল ব্যাবহার করুন যেমনঃ

বিশুদ্ধ কালোজিরার তেল Black cumin oil,সরিষার তেল Mustard oil, ক্যাস্টার ওয়েল Castor oil অথবা অলিভ ওয়েল Olive oil । এসব তেল বাজারের প্রচলিত তেলের চেয়ে গুনে ও মানে ভালো হয়। তবে বিশুদ্ধ তেল খুজে নেওয়ার দায়িত্ব আপনার।

  1. আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বাচাই করুন।
  2. বিভিন্ন প্রকার প্যাক ব্যাবহার করুন যেমনঃ টক দই ও কলার প্যাক, মেথি ও মেহেদির প্যাক।
  3. নিয়মিত ২/৩ বার চুল আঁচড়ান এতে ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে চুল পরা কমে যাবে।
  4. ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে তাই চুল শুকিয়ে নেওয়ার পর আচড়াতে হবে।

 

চুল পরার কারন অনেক হলেও প্রতিকার করার উপায় খুবই সীমিত- মানষিক চাপ বা দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন। দিনে প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। নিয়মিত ফলমুল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করুন। দেখবেন কিছু দিনের মধ্যেই চুল পরা কমে স্বাভাবিক মাত্রায় চলে এসেছে।

তারপরেও যদি আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় তাহলে হোমিওপ্যাথি অথবা আয়ুর্বেদিক ডাঃ এর পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহন করবেন।

আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ্‌ ।

>>>>>>>>>>ধন্যবাদ<<<<<<<<<<<

 

Show More
Back to top button